মেনু নির্বাচন করুন

পীরেরহাট অলৌকিক পুকুর ও মাজারের একাংশ

      

            পীর, আউলিয়া, দরবেশের এই বাংলাদেশে, কতই না সু-প্রসিদ্ধ স্থান লুকায়িত রয়েছে, তা আমাদের  অনেকেরই অজানা। এমনি একটি সু-প্রসিদ্ধ পবিত্র স্থান গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার অন্তর্গত ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিলকপাড়া মৌজায় অবস্থিত পীরেরহাট। কিংবদন্তী আছে এখানে ৪১ জন পীরের মাজার রয়েছে, তার মধ্যে ৩টি  মাজারের সন্ধান পাওয়া গেলেও বাকিগুলো এখনো বাতুনি রয়েছে। এই পীরেরহাট মাজার কত’শ বছর আগে স্থাপিত হয়েছে তার কোন সঠিক দিন- তারিখ খুজে পাওয়া যায়নি। প্রায় ৩ একর খাস জমির উপর পীরেরহাট অবস্থিত। জ্বীন, পরীর আস্তানাসহ একটি মসজিদ, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি বিশাল ঈদগাহ মাঠ, একটি দরগা শরীফ, বিশাল আকারের ৮/১০ শতবর্ষী বট গাছসহ মাঝখানে রয়েছে একটি কেরামতি পুকুর। জনবসতিশূন্য এই পবিত্র স্থানে মলমূত্র বা ময়লা আবর্জনা নেই বললেই চলে। ছামছিম পরিচ্ছন্ন এই পীরেরহাটে অনেকেই অবকাশ সময় কাটাতে বসেন। বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের ঔষধ হিসাবে যুগ যুগ ধরে এই পুকুরের পানি পান করে আসছে, পানির রং ঘোলা হলেও কেউ তা ঘৃণার চোখে দেখে না, লোকমূখে জানা যায় এক সময় এই পুকুরে ডালা, চালন, ভাসতো। নিশান নিক্ষেপ প্রায়ই চোখে পড়ে, এই স্থানে, প্রচন্ড গরমে, মৃদু বাতাস পাওয়া যায়, কোলাহলমুক্ত পরিবেশে এখানে অনেকেই নিরিবিলি সময় কাটায়। গোধূলী লগ্নে এই স্থানে একা কেউ বেড়াতে এলে গা-সহ সমস্ত শরীর ভয়ে শিউরে ওঠে, বিশাল আকারের বট বৃক্ষের পাতাগুলি বাতসে ছম-ছম করে বাজে। এ কারণে রাতের বেলা এখানে কেউ একা আসার সাহস পায় না । এক সময় এখানে হাট-বাজার বসতো, সময়ের ব্যবধানে তা বিলীন হয়ে, এখন মাত্র বছরে চৈত্র মাসের শেষে অষ্টমির পরের শনিবার ১ দিন বারুনীর মেলা বসে, লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে, এই মেলায় এ ছাড়াও বছর শেষে মহররম মাসের ১০ তারিখে বিশাল আকারের ওরস শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। ওরসে শত শত জটাধারী পাগল, পাগলী, দরবেশ, সন্ন্যাসীর আগমন ঘটে। ৪ তরিকার বিভিন্ন পীর-দরবেশ-আউলিয়াগন এক সময় এখানে একত্রিত হয়ে বৈঠক করতো বলে এ স্থানের নাম হয়েছে পীরেরহাট। মাজার রক্ষণাবেক্ষণ কমিটি না থাকায় দিনে দিনে পীর আউলিয়ার এই স্থানটি আস্তে আস্তে হারাতে বসেছে তার পুরানো ঐতিহ্য। সংস্কারের অভাবে এটি বিলীন হতে যাচ্ছে, দেশ স্বাধীনের প্রায় ৪১ বছর অতিবাহীত হলেও পবিত্র ঐতিহ্যবাহী  পীরেরহাট মাজার শরীফ চত্তরের উন্নয়নের জন্য কেউ সু-নজরে তাকায়নি। ৪১ বছরে একাধিক সংসদ সদস্য ইউপি চেয়রম্যান নির্বাচিত হলেও পবিত্র এ স্থানটির উন্নয়নের বিষয়ে কেউ নজর দেয়নি। সম্প্রতি নব-নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন এই পীরেরহাট মাজার এলাকার উন্নয়নের জন্য সু-নজর দিয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি নিজ উদ্যোগসহ সরকারি অনুদানের কিছু অর্থ ব্যয় করে পুকুর পাড়ে ২টি  ঘাট, ঈদগাহ মাঠের মাটি ভরাটসহ নতুন করে সংস্কার, হুজরা খানার ঘর সংস্কার এবং মাজার চত্তরে দানবাক্স, চেয়ারম্যানের নিজস্ব অর্থায়নে ১টি এতিম খানা স্থাপন করে যুগোপযোগী করার কাজে হাত দিয়েছেন। পীরেরহাট এমন একটি পবিত্র স্থান যা লেখার মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব না। তবে কেহ যদি এখানে একদিন স্ব-শরীরে হাজির হন, তবেই বুঝা যাবে কি আছে এখানে##


Share with :

Facebook Twitter